১০টি লাভ জনক পাইকারি ব্যবসার আইডিয়া। পাইকারি ব্যবসা কি ?

আপনারা যারা পাইকারী ব্যবসার করার কথা ভাবছেন বা আইডিয়া খুজ করছেন। তাদের একটি কথায় বলব, যদি আপনার হাতে পুজি খুব বেশি থাকে তাহলে আপনি পাইকারি ব্যবসা করতে পারেন। কারণ পাইকারী ব্যবসায় ঝামেলা খুব কম। খুচরা ব্যবসায় যে সব ঝামেলা পোহাতে হয়, পাইকারি ব্যবসায় তা হয় না। 

পাইকারী ব্যবসায় পুজি একটু বেশি লাগে। পুজি বেশি লাগলেও খুচুরা ব্যবসা থেকে পাইকারি ব্যবসায় লাভটাও বেশি হয়ে থাকে। আপনি যদি পাইকারি ব্যবসা সম্পর্কে একদমই না জেনে থাকেন তবে এই পোস্টটি আপনার জন্য খুবই হেল্পফুল হবে।

আজ কথা বলব, পাইকারী ব্যবসা কি? পাইকারি ব্যবস্যা কিভাবে করে? এবং ১০টি লাভ জনক পাইকারি ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে। এই ১০ টি ব্যবসা খুবই লাভ জনক। আপনারা যে ব্যবসায় করেন না কেন, অবশই সে ব্যবসা সম্পর্কে আগে জেনে বুঝে এর পর ব্যবসায় নামবেন। চলুন শুরু করি।

পাইকারি ব্যবসা সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই অনেক ধারণা রয়েছে। পাইকারি ব্যবসা হল পণ্য বন্টন প্রণালীর একটা অঙ্গ। পণ্য বন্টনপ্রণালী বলতে বলা হয়ঃ

  • উৎপাদক> পাইকারি ব্যবসায়ী> খুচরা ব্যবসায়ী> ভোক্তা 

পাইকারি ব্যবসায়ীরা সরাসরি উৎপাদকের কাছ থেকে মাল কিনে খুচরা বিক্রেতাকে সেই মাল বিক্রি করেন। যেহেতু সরাসরি উৎপাদকের কাছ থেকে পাইকাররা (যারা পাইকারি ব্যবসা করেন) মাল কেনেন। তাই প্রচুর পরিমাণ মাল এদেরকে কিনতে হয়। বিনিময়ে এরা পণ্যের দামের ওপর একটা ভালো টাকা ডিসকাউন্ট পেয়ে থাকেন। এই পাইকারি ব্যবসায়ীরা তাদের ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা অনুযায়ী আবার বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকেনঃ

  •  মাদার স্টকিষ্ট > ডিলার > হোলসেলার

এই মাদার স্টকিষ্টই মূলতঃ উৎপাদকের কাছ থেকে মাল কেনেন এবং এনারাই মূলত ডিলারকে খুঁজে তাকে নিয়োগ করেন।  ডিলার আবার হোলসেলারকে খুঁজে তাকে নিয়োগ করেন৷ হোলসেলারের দায়িত্ব থাকে আবার রিটেলারকে খুঁজে তাকে নিয়োগ করার এভাবেই গড়ে ওঠে কোনও এক উৎপাদিত পণ্যের যোগান  বন্টনপ্রণালী। 

  • শেয়ার বাজার কি? শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করার আগে যা যা জানতে হবে।

১। কাপড়ের পাইকারি ব্যবসা

কাপড়ের পাইকারি ব্যবসা

আমাদের পাইকারি ব্যবসার আইডিয়া এর মধ্যে প্রথম হল কাপড়ের ব্যবসা। আপনারা নিশ্চয় জানেন সারা বিশ্বের মানুষেরই কাপড়ের প্রয়োজন রয়েছে এবং কাপড়ের ব্যবসা সবসময় জমজমাট থাকে। এই ব্যবসার চাহিদা সারা জীবন থাকবেই বর্তমানে আছে, ভবিষতেও  থাকবে। এই ব্যবসার চাহিদা কখনোই কমবে না। পৃথিবিতে মানুষ যতদিন আছে ঠিক ততদিন কাপড়ের চাহিদা থাকবেই। 

আপনি কাপড়ের পাইকারি ব্যবসা করতে চাইলে, আপনার পুজি লাগবে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাক্ষ টাকার মতো। আপনি প্রাথমিকভাবে এমন পুজি নিয়ে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করতে পারেন। তবে আপনাকে ৮ লাক্ষ টাকা নিয়েই যে ব্যবসায় নামতে হবে তেমনটা কিন্তু নয়। স্থান বেদে অথবা আপনার উপর নির্ভর করবে আপনি কত টাকা নিয়ে ব্যবসায় নামতে চান।

কাপড়ের ব্যবসার মধ্যে নানান রকমের ব্যবসা রয়েছে। যেমন, শাড়ি কাপড়ের ব্যবসা, থান কাপড়ের ব্যবসা, থ্রি-পিসের ব্যবসা, লুঙ্গির ব্যবসা ইত্যাদি। এখন আপনি কোন ধরনের ব্যবসাটি করবেন তার উপর নির্ভর করবে আপনার পুজি। 

আপনি যদি শাড়ি কাপড়ের ব্যবসা করতে চান। তবে অবশ্যই আপনাকে শাড়ি উৎপাদন করে এমন প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। ঠিক একইভাবে আপনি যদি লুঙ্গি কিংবা অন্য কোনো জামা নিয়ে পাইকারি ব্যবসা করতে চান। তখন আপনার প্রথম কাজ হবে উৎপাদক খুজে বের করা। যেখানে কম দামে আপনি আপনার পছন্দের কাপড় কিনতে পারবেন, সেখান থেকেই কিনবেন । এতে আপনার লাভ বেশি হবে। 

কাপড়ের পাইকারি ব্যবসার জন্য  কাপড় সংগ্রহ করতে নিচের কোম্পানী গুলোর সাথে যোগাযোগ করতে পারেনঃ

২। মোবাইল এক্সেসরিজ পাইকারি ব্যবসা

বর্তমানে প্রত্যেকের হাতে হাতেই দেখা যায় স্মার্টফোন। আর এই মোবাইল ফোনের বিভিন্ন রকমের এক্সেসরিজ প্রয়োজন হয়। যেমন, মোবাইলের কাভার, হেডফোন, ব্যাটারি, চার্জার ইত্যাদি এ ধরনের অনেক কিছু রয়েছে যেগুলো প্রতিনিয়ত সবার প্রয়োজন হয়। তাই এর চাহিদাও প্রচুর পরিমণে রয়েছে। এই তথ্য প্রযুক্তির দিন যত যাবে এর চাহিদাও তত বাড়বে।তাই আপনি এই ব্যবসা খুব সহজেই করতে পারেন।
 
এই ব্যবসাটি শুরু করতে হলে প্রথমেই আপনাকে এই মালামাল গুলো উৎপাদকের কাছ থেকে ক্রয় করতে হবে। আপনি দুটি উপায়ে এই মাল গুলো সংগ্রহ করতে পারেন।
  • চায়না থেকে আমদানি।
বাংলাদেশে অনেক সার্ভিস আছে যারা সরাসরি চায়না থেকে মালামাল আমদানি করে বিমান এবং যাহাজ যোগে।
চায়না থেকে মোবাইল এক্সেসরিজ  আমদানি করা যায় এমন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের লিস্টঃ
  • সাপ্লায়ার থেকে সংগ্রহ। 
সাপ্লায়ারদের থেকে আপনি খুব সহজেই মোবাইল এক্সেসরিজ পাইকারি দামে ক্রয় করতে পারবেন এবং তা বাংলাদেশ থেকেই।  সাপ্লায়াররা বিভিন্ন কোম্পানি থেকে বা চায়না থেকে এক্সেসরিজগুলো সংগ্রহ করে এবং হোলসেলে পণ্য বিক্রি করে।  এই পাইকারি ব্যবসার আইডিয়াটি খুবই কার্যকর।
বাংলাদেশ থেকে পাইকারি দামে মোবাইল এক্সেসরিজ কিনা যায় এমন কয়েকটি কোম্পানি লিস্টঃ
সুতরাং আপনি যদি ব্যবসাটি করতে চান। তাহলে এই সহজ ২ টি উপায়ে মালামাল সংগ্রাহ করে এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

৩। চাউলের পাইকারি ব্যবসা

পাইকারি ব্যবসার আইডিয়া গুলোর মধ্যে এটি একটি অধিক লাভ জনক ব্যবসা। যার মাধ্যে অল্প পুজি দিয়ে অধিক লাভ করা যায়। চাল এমন এক জিনিস যেটা আমাদের  প্রত্যেকের প্রয়োজন।যত দিন মানুষ বেচে থাকবে তত দিন চাউলের প্রয়োজন পরবেই। চাউলের ব্যবসা এবং চাহিদা থাকবেই থাকবে। সুতরাং আপনি নির্ধিদায় এই চাউলের ব্যবসা করতে পারেন। 
 
চাউলের পাইকারি ব্যবসা করতে হলে আপনাকে যোগাযোগ করতে হবে চাউলের যে মিল ফ্যাক্টরি রয়েছে তাদের মালিক অথবা মেনাজারের সাথে। কিন্ত তার আগে আপনাকে বিভিন্ন চাউলের দাম এবং চাউলের মান সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে। এই ব্যবসায় প্রচুর লাভ রয়েছে। এটি আমাদের ৩ নাম্বার পাইকারি ব্যবসার আইডিয়া।
 
পাইকারি দামে চাল কিনতে নিচের মিল গুলোতে যোগাযোগ করতে পারেনঃ
 
RAIPUR AUTO RICE MILLS
Address: Kauga Road, Shimultola, Dinajpur-5200, Rangpur, Bangladesh
Phone : +88 01733138179, +88 01712552009
Email: [email protected]
Facebook: fb.com/raipurautoricemills
 
MAJUMDER GROUP OF INDUSTRIES
Address: Level-12, Planners Tower, 13/ A Sonargaon Road, Dhaka
Open : Closes 7PM
Phone : 02-9661895
 
RAZZAK GROUP
Address: Babu Bazar,
Dhaka-1100, Bangladesh .
Tel : +880-2-7394807, +880-2-7392060
Fax : +880-2-7391019

৪। স্টেশনারী পাইকারি ব্যবসা

স্টেশনারী পাইকারি ব্যবসা

পাইকারি ব্যবসার আইডিয়া গুলোর মধ্যে একটি দুর্দান্ত ব্যবসা হল স্টেশনারীর ব্যবসা। বর্তমানে বাংলাদেশে শিক্ষার মান এগিয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে আমাদের দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ইত্যাদি। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা যত বৃদ্ধি পাচ্ছে তার থেকেও বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে শিক্ষার্থী সংখ্যা। 

আপনি স্টেশনারি পণ্যগুলো বিভিন্ন কোম্পানি বা ঢাকার চকবাজার থেকে পাইকারি দামে ক্রয় করতে পারেন। তবে এই স্টেশনারি পণ্যগুলোতে লাভ একটু কম হয়। এ ক্ষেতে আপনি যদি অনেক আইটেমের পণ্য বিক্রি করেন তখন আবার আপনার লাভের পরিমাণটি বেড়ে যাবে। সুতরাং আপনি এই স্টেশনারি পণ্যের পাইকারি ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

৫। মুদি পণ্যের পাইকারি ব্যবসা

মুদি পণ্যের পাইকারি ব্যবসা
আমাদের দেশে প্রচুর খুচরা মুদি দোকান রয়েছে। আমরা নিজেরাও ঐসব দোকানে পণ্য কিনতে যায়। তখন দেখতে পায় যে, শত শত রকমের মালামাল রয়েছে। চাল, ডাল, তেল, সাবান নানান রকমের পণ্য রয়েছে।  আ[পনি এই ধরনের পণ্যগুলো পাইকারি দোকানদারদের কাছে বিক্রি করতে পারেন। 
 
এই সব পণ্যের অনেক ডিস্টিবিউটর রয়েছে। এই ডিস্টিবিউটরদের সাথে একটি সম্পর্ক তৈরি করে তাদের সাথে ব্যবসা করতে হবে। এই ডিস্টিবিউটরদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করে আপনি খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পাইকারি দামে বিক্রি করতে পারেন। সেহেতু এই পণ্যগুলো অনেক আইটেমের হয়। সেহেতু এই পণ্যগুলো থেকে যদি অল্প অল্প লাভ ও হয়। তখন দেখা যায় একটা সময় অনেক ভালো লাভের পরিমাণ দেখা যায়। 
 
সুতরাং আপনি নির্ধিদায় নিশ্চিন্তে এই মুদি মালামালের পাইকারি ব্যবসা করতে পারেন।

৬। ব্যাগের পাইকারি ব্যবসা

ব্যাগের পাইকারি ব্যবসা
আমরা অনেক সময় যখন শপিং করতে যায় বা বিভিন্ন মার্কেটে যায়। তখন কিন্তু আমারা  অনেক ব্যাগের দোকান দেখতে পায়। যারা খুচরা বিক্রি করছে।  এই ব্যবসায়ীরা কিন্তু কোনো না কোনোভাবে পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে ব্যাগগুলো কিনে এনে তাদের দোকানে বিক্রি করছে। 
 
ব্যাগের পাইকারি ব্যবসা করতে হলে আপনার পুজি একটু বেশি লাগতে পারে।  কারণ এখানে অনেক নামি দামি ব্যাগ থাকে। তবে এই ব্যাগের ব্যবসা অনেক লাভ জনক একটি ব্যবসা। 
 
আপনি যদি এই ব্যবসা করতে চান তবে এই ব্যাগ উৎপাদনকারী যে সব কোম্পানি রয়েছে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

৭। টি-শার্টের (T-Shart) পাইকারি ব্যবসা

আমাদের দেশে টি-শার্টের ব্যপক চাহিদা রয়েছে। তরুনদের সব থেকে পছন্দের জামা হচ্ছে এই টি-শার্ট। প্রত্যেকটা তরুণই কিন্তু T- Shart পড়ে। এছাড়াও আমরা সবাই কম বেশি টি-শার্ট পড়ে থাকি।
 
আমাদের দেশে টি-শার্ট উৎপাদনকারী অনেক কারখানা রয়েছে । আপনি প্রাথমিক অবস্থায় অল্প পুজি দিয়ে এই টি-শার্ট এর পাইকারি ব্যবসা করতে পারেন। আপনার পরিচিত বা আশেপাশে যদি কোনো কোম্পানী থাকে যারা টি-শার্ট পাইকারি বিক্রি করে।  আপনি তাদের থেকে পাইকারি টি-শার্ট কিনে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে পারেন।
 
প্রাথমি অবস্থায় আপনি খুচরা বিক্রেতাদের সাথে ব্যবসাটি চালিয়ে যাবেন। পরবর্তীতে আস্তে আস্তে ব্যবসাটি বড় করবেন। অবশ্যই চেষ্টা করবেন বিদেশী বায়ারদের কাছে এই টি-শার্টগুলো বিক্রি করতে। এতে আপনার লাভ প্রচুর বেড়ে যাবে।
 
পাইকারি দামে T-Shart কিনতে নিচের Factory গুলোতে যোগাযোগ করতে পারেনঃ
 
1. Ha-Meem Group
Contact Person: MR. A. K. AZAD
Address: Phoenix Tower (4th Floor), 407,
Tejgaon Industrial Area, Dhaka-1215, Bangladesh.
Mobile Number: +8801979212357
Phone: + 880-2-8170592, 880-2-8170593
Fax: 880-2-8170583
 
2. Ananta Group
Contact Person: Mrs. Qamrun Nahar Zahi
Address: House 20, Rd No 99,
Gulshan-2 Dhaka 1212, Bangladesh
Phone: +880 2-8810617
Fax: +880-2-717 1294
 
3. Plummy Fashions Limited
Corporate Office: Unit -502, Concord Tower,
113 Kazi Nazrul Islam Avenue, Dhaka – 1000
Phone: +880 2 8317240, 9346944
Fax: +880 2 9347851

Website: http://plummyfashions.com/ 

4. Standard Group
Contact Person: Engr. Mosharraf Hussain
Address: Civil Engineers Bhaban-69,
Mohakhali C/A, Dhaka 1212, Bangladesh.
Phone: +880 2 9862003
Fax: +880 2 9893175
 
5. DBL Group
Head Office Address: 23/1 Panthapath Link Road,
BGMEA Complex, Kawran Bazar, Dhaka – 1215, Bangladesh
Phone: +880-2-8140367 – 74
Fax: + 880-2-8140214

৮। ঘড়ির পাইকারি ব্যবসা

ঘড়ির পাইকারি ব্যবসা
ঘড়ির পাইকারি ব্যবসা একটি লাভ জনক ব্যবসা।  ঘড়ির ব্যবসার মধ্যে ২ ধরনের ব্যবসা রয়েছে। 
  • ব্রান্ডের ঘড়ি
  • নন-ব্রান্ডের ঘড়ি
আপনি যদি ব্রান্ডের ঘড়ি নিয়ে ব্যবসা করতে চান  তবে আপনার পুজি লাগবে বেশি। যে সকল ব্রান্ডের কোম্পানী রয়েছে তাদের সাথে আপনি যোগাযোগ করে পাইকারি দামে ব্রান্ডের ঘড়ি সংগ্রহ করবেন।এরপর এই ঘড়িগুলো যে এলাকায় বেশি চলবে সে এলাকায় সেল দিবেন। সব এলাকায় কিন্তু ব্রান্ডের ঘড়ি চলে না। অভিযাত এলাকাগুলোতে এই ব্রান্ডের ঘড়ি গুলো বেশি চলে। তাই প্রথমেই আপনাকে অভিযাত এলাকার দোকান গুলোর একটি লিস্ট করতে হবে। এবং এই দোকানগুলোতে আপনি এই ব্রান্ডের ঘড়িগুলো সাপ্লাই দিবেন। 
 
নন-ব্রান্ডের ঘড়ির ব্যবসাটি আপনি অল্প টাকায় করতে পারবেন। এবং এই ঘড়িগুলো যে কোন খুচরা দোকানে বিক্রি করা যায়। তবে কোন ঘড়ির দাম কেমন সে সম্পর্কে একটি আইডিয়া আপনার থাকতে হবে। 
 

৯। থ্রি-পিজ এর পাইকারি ব্যবসা

থ্রি-পিজ এর পাইকারি ব্যবসা
এটিও একটি লাভ জনক ব্যবসা। এর চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে, কারণ, একসময় বাঙ্গালী বধুরা সবসময় শাড়ি পড়তো। কিন্তু বর্তমানে তারা থ্রি-পিজ এর দিকে খুবই বেশি জুকে পড়ছে। তাই এই ব্যবসাটি প্রচুর লাভজনক এবং চাহিদা সম্পন্ন।
 
এই ব্যবসাটিও আপনি অন্য সকল ব্যবসার মতো পাইকারিভাবে করতে পারেন। আমাদের দেশে থ্রি-পিজ এর অনেক পাইকারি বাজার আছে। যেমন, বাবুর হাট, গুলিস্তান, ঢাকা চকবাজার, ইসলাম্পুর ইত্যাদি। আপনি সেখান থেকে পাইকারি থ্রি-পিজ কিনে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে পারেন।  অথবা আপনি সরাসরি গার্মেন্স থেকেও সংগ্রহ করে স্টক করতে পারেন।
 
আপনি যে এলাকায় থ্রি-পিজ এর ব্যবসাটি করতে চান তার উপর নির্ভর করবে আপনার পুজির পরিমাণ কেমন হবে। আপনি যদি অভিজাত এলাকায়  থ্রি-পিজ এর ব্যবসাটি করতে চান তবে আপনার পুজি বেশি লাগবে। কারণ হচ্ছে অভিজাত এলাকায় ব্রান্ডের থ্রি-পিজ স্টকে বেশি রাখতে হবে।  তবে এতে আপনার লাভও বেশি হবে।  আপনি যদি সাধারণ এলাকায় ব্যবসাটি করতে চান তবে আপনার পুজি একটু কম হলেও চলবে।

১০। কসমেটিক্স পাইকারি ব্যবসা

কসমেটিক্স পাইকারি ব্যবসা
এই কসমেটিক্স বর্তমানে নারী পুরুষ সবাই ব্যবহার করে। যে কালো সে সুন্দর হতে চায় আর যে সুন্দর সে আরও সুন্দর হতে চায়। তাই কসমেটিক্স এর চাহিদা ব্যাপক পরিমাণে রয়েছে। এটি খুবই লাভ জনক ব্যাবসা। এবং এটু আপনি অল্প টাকা দিয়েও শুরু করতে পারেন। আপনি যদি কসমেটিক্সের পাইকারি ব্যবসা করতে চান  তবে এটি আপনি ২ ভাবে করতে পারেন। 
 
প্রথমত আপনি ঢাকা চকবাজার থেকে সরাসরি কসমেটিক্স সামগ্রী কিনে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে পারেন। 
দ্বিতীয়ত আপনি সরাসরি কোম্পানী থেকে কসমেটিক্সের সামগ্রী কিনে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে পারেন। 
 
আমাদের দেশে প্রচুর খুচরা কসমেটিক্স ব্যবসায়ী রয়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় পাইকারি ব্যবসায়ী খুবই কম। তাই আপনি যদি এই ব্যবসাটি করতে পারেন তবে এটা খুব লাভ জনক হবে। 
 
আপনি যখন কসমেটিক্সের ব্যবসা করবেন, তখন কিন্তু আপনি একটি মাত্র পণ্য নিয়ে ব্যবসাটি করতে পারবেন না।  কস্পমেটিক্সের যত রকম সামগ্রী রয়েছে তার সব কিছু আপনার স্টকে রাখতে হবে। এতে আপনার লাভের পরিমাণ ও বাড়বে।
 
সব শেষে,
একটি কথায় বলব। আপনি যে ব্যবসাটিই করেন না কেন, সেটি সম্পর্কে আগে জেনে বুঝে তারপর ব্যবসাটি শুরু করুন। ব্যবসাটি সম্পর্কে আগে ভালোভাবে আইডিয়া নিবেন। আপনি যে ব্যবসাটি ভালো বুঝেন, যে ব্যবসায় ভালো সময় দিতে পারবেন সেটিই করতে পারেন।
 
সুপ্রিয় পাঠক, আমাদের ১০ টি পাইকারি ব্যবসার মধ্যে আপনার কাছে কোনটি বেশি লাভ জনক বলে মনে হয়েছে তা অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *